প্রারব্ধ ভোগের চরম সত্য! #বেদবাণী ৩/৩৬
বেদবাণী ৩/৩৬ প্রারব্ধ ভোগের বাধা দিবার কাহারো কোন ক্ষমতার আয়তনে আছে কিনা জানিতে পারি নাই। সংসার মায়াময়, ভ্রান্তজাল, এই অছেদ্য ভ্রান্ত সাগরেই জীবের দশা ঘুরিতেছে।
এই পরম বাণীতে শ্রীশ্রী ঠাকুর মানুষের জীবনের প্রারব্ধ (পূর্বনির্ধারিত কর্মফল বা ভাগ্য) এবং এই মায়াময় সংসারের এক অমোঘ সত্য প্রকাশ করেছেন। বিষয়টিকে সহজভাবে বোঝার জন্য নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
* **১. প্রারব্ধ ভোগের অমোঘ নিয়ম:** 'প্রারব্ধ' হলো আমাদের পূর্বজন্মের বা অতীতের এমন কিছু কর্মফল, যা এই জন্মে আমাদের ভোগ করতেই হবে। ঠাকুর বলছেন, এই প্রারব্ধ ভোগকে বাধা দেওয়ার বা আটকে রাখার ক্ষমতা এই মহাবিশ্বে কারও নেই। কোনো মানুষ, শক্তি বা বাহ্যিক উপায় দ্বারা প্রারব্ধের বিধানকে খণ্ডানো সম্ভব নয়। সুখ বা দুঃখ—যা আমাদের প্রারব্ধে আছে, তা নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের ভোগ করতেই হবে।
* **২. সংসার এক মায়াময় ভ্রান্তজাল:** ঠাকুর এই সংসারকে 'মায়াময়' এবং 'ভ্রান্তজাল' (ভুল বা মোহের জাল) বলে অভিহিত করেছেন। আমরা চোখে যা কিছু দেখছি, যে সমস্ত সম্পর্কের বাঁধনে জড়াচ্ছি বা জাগতিক প্রাপ্তির পেছনে ছুটছি—এই সব কিছুই আসলে একটা মায়ার খেলা। মানুষ এই মায়াকেই চিরন্তন সত্য বলে ভুল করে বসে।
* **৩. অছেদ্য ভ্রান্ত সাগরে জীবের দশা:** এই ভ্রান্তজাল বা মোহ এমন এক সাগরের মতো যা 'অছেদ্য'—অর্থাৎ সহজে ছেদন বা কেটে ফেলা যায় না। এই মোহসাগরে পড়েই প্রতিটি জীব বা মানুষের দশা অবিরাম ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষ জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ এবং লাভ-ক্ষতির এই অন্তহীন চক্রে আটকে থেকে কেবল হাবুডুবু খাচ্ছে, কিন্তু মায়ার বাঁধন থেকে মুক্ত হতে পারছে না।
**সারকথা:** প্রারব্ধ বা ভাগ্যের লিখনকে এড়ানো অসম্ভব। তাই সংসারের এই মায়াময় চক্রে অতিরিক্ত আসক্ত বা বিচলিত না হয়ে, একে ঈশ্বরের বিধান মনে করে শান্ত মনে মেনে নেওয়াই হলো এই মোহের সাগর থেকে মুক্তির একমাত্র পথ।


