ভগবান যা করেন মঙ্গলময়! বেদবাণী ৩/৩৪


 


**বেদবাণী ৩/৩৪**-অদৃষ্ট হইতে যাহাই হইবে বহন করিতে কোন বিষয়ে চঞ্চল হইতে নাই। ভগবান যাহা করেন তাহাতে কোনরূপ অমঙ্গল হয় না, কারণ তিনি মঙ্গলময়। ভ্রান্তিবশতঃ নানান বিষয় দ্বারা চঞ্চল হইয়া জীব সকল দুঃখ পায়। ভগবানে নির্ভর করিয়া থাকিলে তিনি মঙ্গলই দান করেন।


এই বাণীর মাধ্যমে শ্রীশ্রী ঠাকুর মানুষের জীবনের অদৃষ্ট (ভাগ্য), ঈশ্বরের প্রতি অবিচল বিশ্বাস এবং মানসিক শান্তি লাভের এক চিরন্তন সত্য প্রকাশ করেছেন। বিষয়টিকে সহজভাবে বোঝার জন্য নিচে পয়েন্ট আকারে আলোচনা করা হলো:


* **১. অদৃষ্টকে অবিচলিতভাবে মেনে নেওয়া:** 'অদৃষ্ট' বা ভাগ্য থেকে আমাদের জীবনে যখন যা কিছু নেমে আসে—তা সুখের হোক কিংবা চরম দুঃখের—কোনো অবস্থাতেই মনকে চঞ্চল বা অস্থির করতে নেই। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা বা বিচলিত হওয়া আসলে আধ্যাত্মিক দুর্বলতার লক্ষণ। যা ঘটার তা ঘটবেই, তাই শান্ত মনে তা বহন করাই শ্রেয়।

* **২. ভগবান মঙ্গলময়:** আমাদের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে আমরা অনেক সময় কোনো বিপদে পড়লে মনে করি আমাদের অমঙ্গল হচ্ছে। কিন্তু ঠাকুর পরম সত্যটি মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ভগবান যা কিছু করেন, তাতে কোনো অমঙ্গল থাকতে পারে না। কারণ তাঁর মূল রূপই হলো 'মঙ্গলময়'। তিনি সন্তানের কোনো ক্ষতি করেন না; আপাপদৃষ্টিতে যা অমঙ্গল মনে হয়, তার পেছনেও কোনো না কোনো গভীর কল্যাণ লুকিয়ে থাকে।

* **৩. চঞ্চলতাই দুঃখের মূল কারণ:** মানুষ নিজের 'ভ্রান্তিবশতঃ' (ভুল বা মায়ার কারণে) সংসারের নানান জাগতিক বিষয়, লাভ-ক্ষতি ও দুশ্চিন্তা নিয়ে সারাক্ষণ চঞ্চল ও ব্যাকুল হয়ে থাকে। এই মানসিক চঞ্চলতাই জীবের সমস্ত দুঃখ এবং অশান্তির মূল কারণ। আমরা যত বেশি জাগতিক চিন্তায় অস্থির হব, দুঃখ তত বাড়বে।

* **৪. ভগবানে পূর্ণ নির্ভরতা ও পরম কল্যাণ:** সমস্ত চিন্তা ও চঞ্চলতা ত্যাগ করে মানুষ যখন পরমেশ্বরের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখে এবং নিজেকে তাঁর চরণে সমর্পণ করে (ভগবানে নির্ভরতা), তখন ঈশ্বর স্বয়ং তার সমস্ত ভার গ্রহণ করেন। আর তাঁর ওপর এই অটল বিশ্বাস ও নির্ভরতা রাখলে তিনি ভক্তকে অন্তিমে কেবল পরম মঙ্গল ও শান্তিই দান করেন।


**সারকথা:** ভাগ্যলব্ধ সব পরিস্থিতিকে শান্তভাবে মেনে নিন এবং সর্বদা মনে রাখুন যে ভগবান মঙ্গলময়। বৃথা জাগতিক চিন্তায় চঞ্চল না হয়ে ঈশ্বরের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখলে জীবনের সব দুঃখ দূর হয়ে পরম শান্তি লাভ করা সম্ভব।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ